সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুর রউফ পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। গতকাল রোববার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মগবাজারে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফের বাবা এবং বারাকাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
মরহুম বিচারপতি আব্দুর রউফের দ্বিতীয় জানাযা আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে গতকাল রোববার বাদ আসর মহাখালী গাউসুল আযম মসজিদে তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ দ্বিতীয় জানাযা শেষে ময়মনসিংহে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে সদর থানার দাপুনিয়া হাইস্কুল মাঠে মাগরিবের নামাযের পর তৃতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হবে। সৈয়দ রেফাত আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ দীর্ঘদিন যাবৎ হৃদরোগ, ফুসফুস, কিডনি ও বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের পঞ্চম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ১৯৩৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাইমারি ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তি পেয়ে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে ১৯৫১ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন, আনন্দমোহন কলেজ থেকে আইএসসি ও বিএসসি ডিগ্রি, সরকারি বৃত্তি নিয়ে ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ও এমএ ইন এডুকেশন ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আব্দুর রউফ ১৯৬২ সালের জানুয়ারি মাসে তদানীন্তন ঢাকা হাইকোর্টে আইন-ব্যবসায় নিয়োজিত হন। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ১৯৮২ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত হন। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি পদে থাকাকালে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ তাকে ১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে পদত্যাগ করেন ও বিচারপতি এ কে এম সাদেক তার স্থলাভিষিক্ত হন। পরে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন ও ১৯৯৫ সালের জুনে আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি অবসরে যান।
সাবেক বিচারপতি আব্দুর রউফ জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘ফুলকুঁড়ি আসর’- এর কেন্দ্রীয় সভাপতি। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ হামদর্দ (ওয়াক্ফ) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতিসংঘ মিশনে অংশ নিয়ে বিদেশেও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার শোক : সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরাতে বিচারপতি রউফের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশর গণতান্ত্রিক পথচলার ক্ষেত্রে বিচারপতি রউফ বার বার উদাহরণ হয়ে আসবেন। তিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।’
প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, ‘বিচারপতি রউফ ছিলেন নাগরিক সমাজের একজন বড় স্তম্ভ। ভোটাধিকার, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন যা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
প্রধান বিচারপতি ও আইন উপদেষ্টার শোক: সাবেক সিইসি ও বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আলাদা শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট বারের শোক: বিচারপতি আব্দুর রউফের মৃত্যুতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের একান্ত সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. রুহুল আমীন সরদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বার অ্যাসোশিয়েশনের পক্ষ থেকেও শোক জানানো হয়।
আমীরে জামায়াতের গভীর শোক: বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুর রউফ-এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শোকবাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুর রউফ রাজধানী ঢাকার মগবাজারস্থ ইনসাফ বারাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)। তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ হৃদযন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শোকবাণীতে তিনি আরও বলেন, বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুর রউফ ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় শিশু সংগঠন ফুলকুড়ির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি বলেন, আইন এবং আদালত অঙ্গনে তার দীর্ঘ আইনগত পেশা জীবনে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ববোধের যে উদাহরণ স্থাপন করেছেন তা একেবারেই বিরল। আমার জানা মতে সত্যিকারের মজলুমদের পাশে দাঁড়াতে তিনি কখনো কারো সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির পরওয়া করেননি। অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে আইনি সহযোগিতা প্রদান করেছেন। মজলুমানের পক্ষে তার এ লড়াই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মজলুমদের পক্ষ থেকে আমি তাকে গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকাকালে ১৯৯১ সালে জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিয়েছিলেন; যে নির্বাচন দেশ-বিদেশে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলো। তার নিরপেক্ষতা, সততা ও যোগ্যতা ছিলো প্রশ্নাতীত।
দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিজমের পর বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে তার মতো একজন প্রতিভাবান অভিভাবক এর বড় প্রয়োজন ছিল। তার ইন্তিকালে জাতি একজন অত্যন্ত আদর্শবান, দেশপ্রেমিক, উদার গণতন্ত্রমনা, আইন বিশেষজ্ঞ, ন্যায় বিচারক ও একজন ইসলামী ব্যক্তিত্বকে হারালো।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার সকল ভুলত্রুটি মাফ করে দিন, তার নেক আমলসমূহ কবুল করুন এবং তাকে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমি তার শোকাহত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং দোয়া করছি আল্লাহ তাদের এ বিরাট শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।
ইসির শোক : সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) মোহাম্মদ আবদুর রউফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের মৃত্যুতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা গভীরভাবে শোকাহত। নির্বাচন কমিশনের সব কর্মকর্তা/কর্মচারী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন।
বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির শোক: মোহাম্মদ আব্দুর রউফের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির (বিসিএ) সভাপতি আবেদুর রহমান ও সেক্রেটারি ইবরাহীম বাহারী। আরো বিবৃতি দিয়েছেন কল্যাণ পার্টির সভাপতি চেয়ারম্যান মোঃ শামসুদ্দিন পারভেজ ও মহাসচিব মুহাম্মদ আবু হানিফ।
মহাখালীতে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত
গতকাল রোববার বাদ আসর রাজধানী ঢাকার মহাখালীস্থ গাউসুল আজম জামে মসজিদে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মরহুম আবদুর রউফ-এর প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতি, সাবেক এমপি মাহমুদুল হাসান, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী, বুুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লী শরীক হন।
হাসপাতালে ছুটে যান মিয়া গোলাম পরওয়ার
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মুহাম্মাদ আবদুর রউফ-এর ইন্তিকালের খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার দুপুরে মগবাজারস্থ ইনসাফ বারাকা হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণের সহকারী প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আ. সাত্তার সুমন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা.রহুল আমিন প্রমুখ।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিচারপতি আবদুর রউফ দেশের একজন প্রখ্যাত বিচারপতি, একজন বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ এবং সিভিল সোসাইটির স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। সারা দেশে তিনি তার সততা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি আমাদের মাঝ থেকে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে চিরদিনের জন্য রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন। আমরা জাস্টিস আব্দুর রউফ এর ইন্তিকালে গভীরভাবে শোকাহত। তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে তার মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন, তিনি দীর্ঘ নেক হায়াত পেয়েছিলেন। দেশ ও জাতির জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আদালত অঙ্গনে তিনি সুবিচারের যে নজির স্থাপন করেছেন সেজন্য আল্লাহ তায়ালা এই নেক আমলগুলো কবুল করুন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল; তখন তিনি চিফ ইলেকশন কমিশনার ছিলেন। ইতিহাসের সকল রাজনৈতিক দল মত নির্বিশেষে এটা স্বীকৃত যে, সেই নির্বাচনই ছিল সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। সততা, নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি জাতির কাছে একটি অনন্য অবদান রেখে গেছেন।
তিনি সকলের সাথে সদাচরণ করতেন। তিনি লেখক, কবি, সাহিত্যিক, আলেম ওলামা, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে সাবলীলভাবে মিশতেন। তিনি জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সুশাসনের জন্যে অনেক কাজ করে গিয়েছেন। তিনি জাতির যেকোনো ডাকে, রাষ্ট্রের ডাকে, সরকারে ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তার এই শূন্যতা কিভাবে পূরণ হবে আমরা জানি না। আজকাল সৎ মানুষ, যোগ্য মানুষ, বিবেকবান মানুষ, সুবিচারপূর্ণ মানুষ খুবই বিরল হয়ে গেছে। জাতির এই দুঃসময়ে সংকটে তার খুবই প্রয়োজন ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থেকে তিনি তার সুশ্চিন্তিত পরামর্শ দিয়েছেন। তার ইন্তিকালে জাতির সংকটকালে তার দারুণ শূন্যতা অনুভব করছি। তার এই অবদান আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার খুব ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তার জন্য মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং দোয়া জানিয়েছেন। তার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন। আমরা তার জানাযায় অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি।