* নসরুল হামিদ বিপু ও তার স্ত্রীর ২০ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হকের নামে থাকা ৬৫ বিঘা জমি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। এসব জমির মূল্য দুই কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের নামে থাকা দুই কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি দলিলের জমি ও সন্তান গাজী বুশরা তাবাসসুমের নামে থাকা ৭৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের ১০টি দলিলের জমি জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা রয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক এসব সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করলে শুনানি নিয়ে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে।
আবেদনে বলা হয়েছে, গাজী মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবী হয়েও অবৈধভাবে ব্রিজ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যানসহ নয়টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা অর্জন, বাড়ি দখল, রিমান্ডে নির্যাতন করে জমি লিখে নেওয়া, অবৈধভাবে নদী ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি, তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেল ও সন্তান গাজী বুশরা তাবাসসুমমের নামে ৬৭টি ব্যাংক হিসাবে ৪৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা জমা করেন। এর মধ্যে ৪৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা উত্তোলন ও বর্তমানে ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকা স্থিতি রয়েছে। অনুসন্ধানে নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ অবরুদ্ধের আবেদন করে দুদক।
নসরুল হামিদ ও তার স্ত্রীর ২০ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং তার স্ত্রী সীমা হামিদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ২০টি হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের এসব ব্যাংক হিসাবে দুই কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার ১১৬ টাকা রয়েছে। গতকাল বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ছয় কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৪ টাকার সম্পদ অর্জন এবং নিজ নামে ২০টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৯ টাকা জমা এবং মোট ১১ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৮ টাকা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ এনেছে দুদক। এসব সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে এর হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা তৎসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধে মামলা দায়ের করে সংস্থাটি।
দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলাটি করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মামলা রুজুর পর থেকে আসামি তার ব্যাংকে রক্ষিত টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে বরাতে জানিয়েছে দুদক।
সংস্থাটির ভাষ্য, এসব আয়ের মাধ্যমে অর্জিত বর্ণিত সম্পদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১৭ ধারা মতে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না বিধায় রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।