গাজীপুর মহানগরের পূবাইল কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত অবৈধ পোড়া মবিল ও টায়ার রিসাইক্লিং কারখানায় আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ইকো টেক লিমিটেড (স্থানীয়দের কাছে রিফাইন অয়েল কারখানা হিসেবে পরিচিত) নামের ওই প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

গাজীপুর...২

অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন থেকে সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ শাহিন আলমের (বিএফএমএস) নেতৃত্বে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকেল ২টা ২২ মিনিটে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বিকেল ২টা ৫৪ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে। তবে তাদের দ্রুত পদক্ষেপে প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণও তদন্ত শেষে জানা যাবে।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ শাহিন আলম জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, কারখানাটি পরিত্যক্ত টায়ার ও ব্যবহৃত মবিল পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে জ্বালানি উৎপাদনের কাজ করত। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার দায়িত্বশীল কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবাসিক এলাকার মধ্যে গড়ে ওঠা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। শনিবারের আগুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে একই প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে একজন স্কুলশিক্ষিকাসহ ছয়জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার এক দশক পর আবারও একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ এ ধরনের শিল্পকারখানার কার্যক্রম দ্রুত বন্ধ করে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।