মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটি মারা গেছে। গতকাল সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকায় শিশুটির মারা যাওয়ার খবর বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে। শিশুটির মৃত্যুর সংবাদে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃত্যুর সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে স্যোশাল মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। ন্যায়বিচারের দাবিতে সবাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিশুটির বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করে এবং ধর্ষকের বিচার দাবি করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, শিশুটি ইতিহাসের করুণ সাক্ষী হয়ে আজ দুপুর ১টার দিকে দুনিয়া ছেড়ে সারা বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে চলে গেল। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তা’য়ালা তাকে একান্ত প্রিয় হিসেবে কবুল করুন। জান্নাতে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা মেহেরবাণী করে দান করুন।
শিশুটির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করে জামায়াত আমীর বলেন, মানুষ নামের যে পশুরা তাদের পাশবিক লালসা চরিতার্থ করতে গিয়ে মা’সুম শিশুটির জীবনের আলো নিভিয়ে দিলো, এ পশুদের কঠিনতম ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। সর্বোচ্চ ৯০ দিনের ভিতরে (৯০ কর্ম দিবস নয়) এদের শাস্তি কার্যকর করতে হবে।
পরিবারের প্রতি শোক জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিধ্বস্ত পরিবারকে কোনো ভাষায় সান্ত্বনা দিব সে ভাষাটিই হারিয়ে ফেলেছি। মহান রবের দরবারে দো’য়া করি, তিনি যেন তার পিতা-মাতাসহ আপনজনদেরকে নির্বিশেষে, বিবেকবান দেশবাসীকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, মানুষ নামের এ প্রজাতির পশুদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে, সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। ধর্ষকদেরকে ঘৃণা করি ও বয়কট করি।
শিশুটির মৃত্যুর সংবাদে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। তারা উভয়েই একই স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তারা স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমাদের বোন আর নেই। তার ধর্ষণের বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্ষকদের শাস্তির এক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হোক।
বিচারহীনতা, বিচারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে যে ধ্বংসাবশেষ জায়গায় নিয়ে গিয়েছে, শিশুটির ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে সেই বিচার ব্যবস্থা আবার জেগে উঠুক। পুরো বাংলাদেশ বোনটির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, লজ্জিত। ’
গত পাঁচই মার্চ শিশুটি মাগুরায় বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়। ওই ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন শিশুটির মা। মামলা দায়েরের পর শিশুটির বোনের স্বামী, বোনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাসুরকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
শিশুটির মৃত্যুর খবরে শোক জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিশুটির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মাগুরার কয়েকটা নরপশুর নিষ্ঠুরতা ওই শিশুটির ওপর দিয়ে গিয়েছিল। ক্ষতচিহ্ন নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় সংগ্রাম করে শিশুটি জগতের মায়া ছেড়ে আমাদের কতটা লজ্জা দিয়ে ও কাঁদিয়ে বিদায় নিয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানের পাঠানো বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি তার বিদেহী রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পৌশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে খেলাফত মজলিস। এক শোকবাণীতে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, মাগুরায় ধর্ষণে নির্যাতিত শিশু আছিয়ার শিশু আছিয়ার মৃত্যু পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ জঘন্য ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমরা নিহত শিশুটির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে জান্নাতুল ফিরদাউস কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আমরা আছিয়ার ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম মাগুরার শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, যে অভিশপ্তরা এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের বিচার আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করে রায় কার্যকর করতে হবে। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করুন বা নতুন আইন তৈরি করুন কিন্তু ৯০ দিনের মধ্যে রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চায় দেশবাসী।