সরকারের এ মুহূর্তে গ্যাস এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেছেন, সংকট থাকলেও জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত সরকারের। গ্যাসের জন্য ভোলায় ৫টি কূপ খননের টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক শেষে এসব জানান উপদেষ্টা।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রমজান উপলক্ষে যে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ১৫০ মেগাওয়াট দেওয়া হবে শিল্প কারখানায়।

ফাওজুল কবীর বলেন, মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সময়ে ১০০ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এর ফলে সেখানে যত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তা শিল্প কারখানায় দেওয়া হবে। এই দুই সিদ্ধান্তের ফলে ২৫০ এমএমসিএফ গ্যাস বাড়বে শিল্প কারখানায়। কূপ খননের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের জন্য এ বছর ৫০টি কূপ খনন করা হবে এবং আগামী বছর ১০০টি কূপ খনন করা হবে। সেখান থেকে ৫০০ এমএমসিএফ গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, একটা টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে। সরকার গ্যাস অনুসন্ধানে মনোযোগ দিচ্ছে। সংকট মেটাতে শিল্পে বাড়তি ২৫ কোটি ঘনফুট (২৫০ মিলিয়ন ঘন ফুট-এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহের অপ্রতুলতার কারণে শিল্পে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা জানি। বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তা যারা রয়েছেন আজ তারা এখানে ছিলেন। আমরা সবাই মিলে এটা নিয়ে আলাপ করেছি।

উপদেষ্টা বলেন, আলাপ করে আমরা কতগুলো সিদ্ধান্তে এসেছি। আমরা তাদের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখিয়েছি যে আমাদের দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। সেই ঘাটতি পূরণের জন্য আমরা এলএনজি আমদানি বাড়াচ্ছি। ফাওজুল কবির খান বলেন, রমযান উপলক্ষে যে গ্যাস দেওয়া হতো সেখান থেকে আমরা ১৫ কোটি ঘনফুট (১৫০ এমএমসিএফডি) গ্যাস বিদ্যুতের পরিবর্তে শিল্পে দেব। এটা হচ্ছে আমাদের প্রথম সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত চারটি এলএনজি কার্গো আনবো। এতে আরও ১০ কোটি ঘনফুট (১০০ এমএমসিএফডি) গ্যাস। সুতরাং সর্বমোট শিল্পে গ্যাসের বরাদ্দ ২৫০ কোটি ঘনফুট বাড়বে। বরাদ্দের ক্ষেত্রে আমরা শিল্প এলাকায় দেব। আমরা একমত হয়েছি যে, কাজগুলো আমরা একসঙ্গে করব। শিল্প এলাকাগুলো ওনারা (ব্যবসায়ী) চিহ্নিত করে দেবেন। সেগুলোতে আমরা সরবরাহ বাড়াবো এবং এগুলো ক্রমাগত তদারকি করবো।

সিঙ্গাপুর থেকে আসছে আরো দুই কার্গো এলএনজি: দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করবে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। সিঙ্গাপুর থেকে এ দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ১০৪ কোটি ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩৬ টাকা।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮’ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো (৩০-৩১ মে ২০২৫ সময়ে ২৫তম) এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

জানা যায়, পেট্রোবাংলা থেকে এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী চুক্তিবদ্ধ ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হলে চারটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। চারটি প্রস্তাবই কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনি¤œ দরদাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১১ দশমিক ৪৪৮৮ মার্কিন ডলার হিসাবে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বমোট ৫৪৯ কোটি ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫২ টাকায় আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে উপস্থাপন করা হলে কমিটি তা অনুমোদন দিয়েছে।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮’ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো (২-৩ জুলাই ২০২৫ সময়ে ২৭তম) এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

এ এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য এমএসপিএ স্বাক্ষরকারী চুক্তিবদ্ধ ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হলে ছয়টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। ছয়টি প্রস্তাবই কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনি¤œ দরদাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১১ দশমিক ৫৭৮৮ মার্কিন ডলার হিসাবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বমোট ৫৫৫ কোটি ৩২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৪ টাকায় আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।