ঢাকাস্থ কয়রা-পাইকগাছার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণকে নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গত সোমবার সাভারের বিরুলিয়া কৃষিবিদ সিটিতে কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে ঢাকাস্থ কয়রা-পাইকগাছার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ এমরান হুসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ভাইদের পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় ইস্পাতের ন্যায় মজবুত। নিছক আল্লাহকে রাজি খুশি ও ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে কাজ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনের মাধ্যমে ঢাকায় যারা আছেন নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক চেনা-জানা ও সুসম্পর্ক গড়ার সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। আমাদের জন্মস্থান ছেড়ে জীবন জীবিকার তাগিদে শহরমুখী হয়েছি। কিন্তু আমাদের জন্মস্থান, আমরা যেখানে বেড়ে উঠেছি, সেখানে ইসলামী আন্দোলনের কাজকে মজবুত করতে আমাদের সংঘবদ্ধ হওয়া একান্ত জরুরি। নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে পাড়া-মহল্লা, গ্রামে-গঞ্জে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কয়রা-পাইকগাছা ইসলামী আন্দোলনের উর্বর ভূমি। এই ভূমির উন্নয়ন করার দায়িত্ব কয়রা-পাইকগাছাবাসীর।

এসময় তিনি সকলকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে জয়ী করতে সকলকে ঐক্য, ধৈর্য ও সংঘবদ্ধভাবে গ্রাম-গঞ্জ, শহর-নগর সর্বত্র কাজ করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শুরুতে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরাম ঢাকাস্থ দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। এই ফোরামের মাধ্যমে আমরা কয়রা-পাইকগাছার প্রকৃত সমস্যা সমাধানে সকলে মিলে কাজ করবো। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ কয়রা-পাইকগাছার মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে ঢাকা এসে যেন এই ফোরামের মাধ্যমে সর্বাত্মক সহায়তা পায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। আগামীতে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা আমাকে সুযোগ দিলে কয়রা-পাইকগাছাবাসীর প্রাণের দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবো। আমাদের এই ঈদ পুনর্মিলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পরে ঢাকাস্থ কয়রা-পাইকগাছাবাসীর সাথে একে অপরকে চেনা-জানার সুযোগ হলো। সকলে ইসলামী আন্দোলনকে বেগবান করতে নিজ নিজ এলাকা ও স্ব স্ব জায়গা থেকে কাজ করতে আহ্বানও জানান তিনি।

কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক জনাব আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো: মোহতারাম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত মেহমানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সহকারী প্রকাশনা সম্পাদক স. ম আব্দুল্লাহ আল-মামুন, কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের সদস্য মো: ফোরকান আলী, সদস্য মোস্তফা আল মাদানী, ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ইভিপি এন্ড হেড অব বিপিএমডি’র মো: মজনুজ্জামান, ঢাবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ সচিবালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি মো: আশরাফ হোসেন, ঢাকাস্থ কয়রা সমিতির সভাপতি এস এম মোমতাজুল ইসলাম, আলতাফ হোসাইন, মাওলানা মিজানুর রহমান, এডভোকেট লিয়াকত, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট শাহ আলম, মাওলানা মিজানুর রহমান, এস এম হাসানুজ্জামান প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক আব্দুর রশীদ বলেন, কয়রা-পাইকগাছা প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। এখানকার মানুষ নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকে। অনেকেই বিপদে-আপদে ঢাকা শহরে এসে অসহায় হয়ে পড়ে। তাদেরকে সহায়তা করা, দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় সহায়তা করা, অসচ্ছল ও বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াসহ ঢাকাস্থ কয়রা-পাইকগাছাবাসীর সকলের মাঝে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে কাজ করছে কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের ইয়াছিন আরাফাত, সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, এডভোকেট শাহীনুর রহমান, সদস্য শাহীন বাশারসহ কয়রা-পাইকগাছার অর্ধ-সহস্রাধিক লোকজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম এবং ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন মো: মিজানুর রহমান। বিকেলে টাইফুন শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজিত এক মনোমুগ্ধকর ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।