সাতক্ষীরার আশাশুনি, কলারোয়া ও শ্যামনগরে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) জেলা সদর, কলারোয়া ও আশাশুনি থেকে এ মরদেহ উদ্ধার হয়।
এসব ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক বৃদ্ধ, এক যুবক এবং এক নারী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শেতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রহিম মালি (৬০) শুক্রবার সকালে বেউলা গ্রামের পশ্চিম বিলের একটি খাল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা খালে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, অসাবধানতাবশত খালে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে একটি মোবাইল ফোন টাওয়ারের নিচ থেকে মেহেদী হাসান (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। শুক্রবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
এদিকে জেলার অপর এক ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পুলিশ ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আশাশুনি থানার ওসি মো. হারুনার রশিদ মৃধা এবং কলারোয়া থানার ওসি এইচ এম শাহীন জানান, পৃথক ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।
একই দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।