দীর্ঘদিনের পেশাদারিত্ব, সততা, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ নাগরপুরের দুই কৃতী সাংবাদিক মো. আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)-এর ২০২৬–২০২৭ সেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সাংবাদিক অঙ্গনের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন।

গত সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে মো. আমজাদ হোসেন রতন গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ডা. এম. এ. মান্নান উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা, সততা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদানের মূল্যায়ন হিসেবে তাঁদের স্ব স্ব পদে বহাল রাখা হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

তাঁদের এ অর্জনে নাগরপুরের সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান বলেন, “মো. আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান দুজনই সংগঠনের অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, সৎ ও দক্ষ সংগঠক। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁদের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সংগঠনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমি তাঁদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।”

মো. আমজাদ হোসেন রতন নাগরপুর উপজেলার ঘিওরকোল গ্রামের কৃতী সন্তান। প্রায় তিন দশক ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তিনি জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে একজন অভিজ্ঞ, নির্ভীক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর পেশাগত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক সম্মাননা, গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

অপরদিকে, নাগরপুর উপজেলার দুয়াজানী কলেজপাড়ার বাসিন্দা, আহাম্মদ হোসেনের কনিষ্ঠ সন্তান ডা. এম. এ. মান্নান দুই সন্তানের জনক। তিনি ইংরেজি সাহিত্য ও আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেছেন। ২০০৭ সালে কিশোরকণ্ঠে লেখালেখির মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতার সূচনা হয়। পরে সাপ্তাহিক কালের আয়নার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক পূর্বাকাশ, সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো ও সোনার বাংলাসহ একাধিক গণমাধ্যমে কর্মরত রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নাগরপুর প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সরকারি নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষক, সংগঠক ও সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত। মানবিক চিকিৎসাসেবা, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনিও গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডসহ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

তাঁদের এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রবীণ সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক চলনবিলের আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, “আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান দুজনই সাংবাদিকতার নৈতিকতা, পেশাগত সততা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁদের পুনর্নির্বাচন শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি নাগরপুরের সাংবাদিক সমাজের জন্যও একটি গর্বের বিষয়। তাঁদের এ অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করবে।”

নাগরপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো. আনিসুর রহমান বলেন, “যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন সব সময়ই নতুন প্রেরণার জন্ম দেয়। নাগরপুরের দুই কৃতী সাংবাদিকের জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ আমাদের সবার জন্য গর্ব ও আনন্দের। তাঁদের এ সাফল্য নাগরপুরের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে এবং তরুণ সাংবাদিকদের সামনে সৎ, আদর্শিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

দুই সাংবাদিকের এ গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে নাগরপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সত্যনিষ্ঠা ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মো. আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান ভবিষ্যতেও সাহসী, বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।