টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার অন্তত ৯৮টি স্থানে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং এর ফলে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার ছাব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি এবং কেরেঙ্গানাল এলাকায় সড়ক হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা: পাহাড় ধসের ঝুঁকি এবং সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া সেখানে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন
প্রাণহানি: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লক্ষ্মী বিলাস চাকমা (৭০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্র চালু: পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে রাঙামাটি জেলায় ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ: প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে রাঙামাটির সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসরত নাগরিকদের অনতিবিলম্বে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।