রেজাউল বারী বাবুল, স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর : মুসলিম উম্মাহ বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে গতকাল রোববার শেষ হয়েছে এবারের তাবলীগ জামায়াতের ৫৮তম ইজতেমা। দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদ কান্ধলভী অনুসারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অশ্রুসিক্ত নয়নে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তির জন্য দোয়া করেন।

মোনাজাত ও গুরুত্বপূর্ণ বয়ান

তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী মোনাজাত পরিচালনা করেন। বেলা ১২:৩৭ থেকে ১:০৭ পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী এই মোনাজাত কুরআনের আয়াত ও উর্দু ভাষায় পরিচালিত হয়। এতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তি এবং দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার তৌফিক কামনা করা হয়।

ফজরের পর মাওলানা মোরসালিন বয়ান প্রদান করেন, যার বাংলা অনুবাদ করেন মুফতি আজিম উদ্দিন। সকাল ৯:৩০ থেকে আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত হেদায়াতি বয়ান করেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। তার বক্তব্য বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ।

মুসল্লিদের ঢল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

শেষ দিনে মোনাজাতে অংশ নিতে রবিবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো মুসল্লি ইজতেমা মাঠে আসেন। সকাল ৯টার মধ্যেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, ফলে মুসল্লিরা আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও যানবাহনের ওপর অবস্থান নেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং রেলওয়ে বিভাগ মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৮টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও জামাত গঠন

এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে বিশ্বের ৬৪টি দেশের ১,৫৮৪ জন বিদেশি মুসল্লি অংশ নেন। তাদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা ছিলেন।

ইজতেমার আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দাওয়াতি কাজের জন্য দেড় সহস্রাধিক জামাত গঠিত হয়েছে, যারা ১০/১৫ দিন, এক চিল্লা, দুথচিল্লা, তিন চিল্লা, পাঁচ চিল্লা ও এক বছরের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়বেন।

যানজট ও মানুষের ঢল

ইজতেমার শেষ দিনে মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার জন্য রাস্তায় নেমে পড়েন, ফলে টঙ্গীর কামারপাড়া সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত তাবলীগ জামায়াতের ৫৮তম ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।