রাজধানীর একটি শো-রুম থেকে টেস্ট ড্রাইভের কথা বলে দামি গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহসান আহমেদ ওরফে মাসুম (৩৬) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে ছিনতাই করা জিপগাড়ি, একটি ম্যাগাজিনসহ পাঁচ রাউন্ড গুলী ভর্তি বিদেশি পিস্তল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার আহসান আহমেদ ওরফে মাসুম বুয়েট থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন। টেকলোজিতে তিনি খুবই অভিজ্ঞ। গাড়ি সম্পর্কে তার বিস্তর জ্ঞান। বিভিন্ন শো-রুমের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এভাবে তিনি গাড়ি নিয়ে যান। পরে গাড়ির মালিকদের কাছে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরীবাগ গার্ডেন টাওয়ারে অবস্থিত হইল ডিলস্ নামক গাড়ির শো-রুমের স্বত্বাধিকারী মাশরুর নাঈর। তিনি জাপানিজ গাড়ির একজন আমদানিকারক ও ডিস্ট্রিবিউটর। গত ৭ মার্চ বিকেলে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি ফোন করে টয়োটা হ্যারিয়ার জিপগাড়ি কেনার জন্য মাশরুর নাঈরের সঙ্গে কথা বলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে মাশরুর নাঈর সেই ব্যক্তিকে তার বাসার গ্যারেজে গাড়ি দেখার জন্য আসতে বলেন। পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেই ব্যক্তি বাসার গ্যারেজে আসেন এবং গ্যারেজের বাইরে আরও দুজন অবস্থান করেন। পরে একটি টয়োটা হ্যারিয়ার জিপগাড়ি টেস্ট ড্রাইভ দেওয়ার জন্য মাশরুর নাঈরের চাচাতো ভাই মো. পিয়াল মাহমুদকে নিয়ে সেই অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি গাড়িটিতে ওঠেন। তারা গাড়িটি চালিয়ে রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি) হাসপাতালের সামনে মেট্রোরেল স্টেশনে আসেন। তখন গাড়ি থামিয়ে তাদের একজন পিয়াল মাহমুদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যান। গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৮৫ লাখ টাকা। রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম আরও বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ছিনতাইকারীরা মাশরুর নাঈরের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা দিয়ে মামলা না করার জন্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি না জানানোর জন্য হুমকি দেন।