জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে মিয়ানমারকে মানবিক করিডোর দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গণশক্তি সভা আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোন আলাপ-আলোচনা না করে মানবিক করিডোর দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া একটি হঠকারি সিদ্ধান্ত। রাখাইন রাজ্যসহ পুরো মায়ানমারে এখন চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা বিরাজমান। আরকান আর্মি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে চরম অমানবিক আচরণ করছে। তারা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের ঘরছাড়া করেছে। রাখাইন রাজ্যে এখন কোন কর্তৃপক্ষ নেই। এই নাজুক অবস্থায় মানবিক করিডর দিলে পুরো এলাকা অস্তিতিশীল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

গত সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে মিয়ানমারকে মানবিক করিডোর দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গণশক্তি সভা আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অংশ নেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মহসিন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সাদেকুর রহমান। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ড. মো: হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি সোহেল রানা মিঠু, কৃষিবিদ ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটার মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটার মোহাম্মদ ওমর ফারুক, নতুন ধারা জনতার পার্টির চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ নূর, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মজুমদার প্রমুখ। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, মানবিক করিডোরের মত একটা স্পর্শকাতর ইস্যুতে রাজনৈতিক দল গুলোর সাথে পরামর্শ না করে সিদ্ধান্ত নেয়া একটা অন্যায়। কেবলমাত্র নির্বাচিত সরকারই মানবিক করিডর এর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সরকারের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করে মানবিক করিডরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আরাকান আর্মি চূড়ান্তভাবে একটা অমানবিক বর্বর বাহিনী। তাদেরকে বিশ্বাস করা হবে মারাত্মক ভুল। যারা মানবিক করিডরের কথা বলছেন তাদের উচিত হবে রাখাইন, আরকান আর্মি, রোহিঙ্গার ব্যাপারে সম্যক ধারণা নেওয়া। তিনি আরো বলেন, তড়িঘড়ি করে করিডোর দেওয়া উচিত হবে না। মানবিক করিডোর সমস্যার সমাধান নয়। সরকারের উচিত হবে মানবিক করিডোরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করা।

গণশক্তি সভার সভাপতি সাংবাদিক সাদেক রহমান তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে এই অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে না উঠে। সব গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর সাথে আলাপ না করে মানবিক করিডোর দেয়ার সিদ্ধান্ত হবে বিপদজনক।

সাইফুল হক বলেন, রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের মানবিক করিডোর মূলত একটি ভূরাজনৈতিক পন্থা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামরিক হস্তক্ষেপের একটি ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, রাখাইনে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চিন্তা চালু হয়েছে, যেখানে শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং একটি নিয়ন্ত্রিত এলাকা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সামরিক অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হতে পারে।