বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর গাজীপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়লের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে এবং বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর রাজেন্দ্রপুর নান্দুয়ান এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন স্থান থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে সেটি রাজেন্দ্রপুর বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন। মিছিল শেষে বক্তব্য দেন নাসির মোড়ল। বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গাজীপুরে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ভয়ভীতি বা দমন-পীড়নে তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

পরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে মিছিলের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে নাসির মোড়ল লিখেন, 'আমি নাসির মোড়ল বাংলাদেশের মাটিতে শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত হয়ে এসেছি। আমার মৃত্যু হলেও আমি রাজপথে থাকবো। আপনারাও আসুন, আমার হাতে হাত মিলিয়ে রাজপথে নামি।'-এমন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে প্রকাশ্যে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও ডিজিটাল আলামতের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে ইতোমধ্যে অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে।

তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইন সবার জন্য সমান এবং কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। গাজীপুর মহানগরের শান্তি-শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে জিএমপির অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা নগরবাসীকে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।'

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত মিছিলের ভিডিও ও অন্যান্য ফুটেজ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের নাশকতামূলক বা আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জিএমপি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।'

অন্যদিকে গাজীপুর জেলা পুলিশের জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, 'ঘটনাটি মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে। তবে বিষয়টি জানার পর আমরাও ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।'

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিও, স্থিরচিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।