টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বাড়ায় আনুমানিক ১৪,০০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুর বিভাগের ৫টি জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং তা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং রংপুর বিভাগে চলমান অতি ভারী বর্ষণের ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের প্রায় ১৪,০০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে
নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি বাড়া-কমার ফলে পচন ধরে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের শ্রম ও বিনিয়োগ। অনেক এলাকায় আমন আবাদের জন্য প্রস্তুত করা বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুনরায় চারা তৈরির সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।
পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের এই জেলাগুলোতে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচটি জেলার অন্তত ২৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নদী পাড়ের বাসিন্দারা অন্যত্র আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ভাটি এলাকায় প্রবল চাপে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন পানিবন্দি পরিবারের তালিকা তৈরি করছে এবং দ্রুত শুকনো খাবার বিতরণের আশ্বাস দিয়েছে।