গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) কৃষি শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি প্রবর্তন এবং আন্তর্জাতিক মানে কৃষি শিক্ষা উন্নীত করার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
রবিবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে ‘দক্ষ শিক্ষক, উন্নত কৃষি শিক্ষা’ স্লোগানকে ধারণ করে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কৃষি অনুষদের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক এ আয়োজনটি হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের এসপিএম প্রফেসর ড. মো. আব্দুল বাসেত মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন এসপিএম প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধুনিক বিশ্বে উচ্চশিক্ষার মান নির্ধারণে অ্যাক্রেডিটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কৃষি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাদান পদ্ধতি, পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং গবেষণাকে সময়োপযোগী ও ফলাফলমুখী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হওয়ায় কৃষি শিক্ষার আধুনিকায়ন জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
উদ্বোধনী পর্বের সমাপনী বক্তব্যে তিনি প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় পর্বে কৃষি শিক্ষার আধুনিকায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার, সিলেবাস উন্নয়ন, এবং শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ক্লাউড কানেক্ট AI-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) তামজিদুল হক চৌধুরী কৃষিতে AI ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কৃষি গবেষণা ও শিক্ষায় প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সহজ হবে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে দেশি-বিদেশি ১০ জন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষক বিভিন্ন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করবেন। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা আধুনিক আউটকাম বেজড এডুকেশন (OBE), গবেষণা দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা অর্জন করবেন।
আয়োজকরা জানান, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কৃষি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গাকৃবির অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।