বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। এই ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট চারটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যেগুলোর নাম রাখা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা- হযরত আবু বকর (রা), হযরত উমর (রা), হযরত উসমান (রা) ও হযরত আলী (রা)-এর নামে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে গত ১৮ জুন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-এর ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ আজ চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সদ্য কমিশন প্রাপ্ত অফিসারদের উপর ন্যস্ত হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। প্রধান অতিথি সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সকল অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জাপন করেন।

দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এ ছাড়াও, ০৪ জন ফিলিস্তিন, ০১ জন তানজানিয়া, ০১ জন জাম্বিয়া এবং ০১ জন মালদ্বীপ এর অফিসার ক্যাডেট বিএমএ হতে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন। ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত 'সোর্ড অব অনার' ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য 'সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক' অর্জন করেন। পাশাপাশি, এ একাডেমি হতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন সার্জেন্ট আবু বকর, তানজানিয়া। পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন। এরপর অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ এবং প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকগণ নবীন অফিসারদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড ও কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যগণ, দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারগণের পিতা-মাতা ও অভিভাবকগণ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে এ বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।

পরবর্তীতে, সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর শুভ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএ-তে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটগণের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর পাশাপাশি ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ছাড়াও, তিনি বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ, ভাটিয়ারি; বিএমএ পার্ক; বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পসমূহের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ, বিএমএর বিভিন্ন পদবির কর্মকর্তাগণ, অফিসার ক্যাডেটবৃন্দ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ।

সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, এর আগে ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নে’ পাঁচটি কোম্পানি ছিল- জাহাঙ্গীর, রউফ, হামিদ, নুর মোহাম্মদ ও মোস্তফা কোম্পানি- যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বীরদের নামে। নতুনভাবে গঠিত দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নে চার খলিফার নামে কোম্পানি নামকরণের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কাঠামোগত সম্প্রসারণে ভিন্নমাত্রা যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নে আরও দুটি কোম্পানি যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে, যা হবে পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা) ও স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা)-এর নামে কোম্পানি দুটির নামকরণ প্রস্তাব করা হলেও এখনও তা অনুমোদন পায়নি।

সেনাবাহিনীর সূত্র আরও জানায়, প্রতিবছর ক্যাডেট নিয়োগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।