সংগ্রাম ডেস্ক
গতকাল রোববার সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘জুলাই-এর অগ্নিঝরা দিনগুলীতে উলামায়ে কেরামের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাখেন তালিমুল কুরআন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম এবং বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার মুফতি কাজী ইব্রাহীম।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুসলিম জনতা ঐক্য পরিষদের আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, ছারছিনা দরবার শরিফের ছোট হুজুর মাওলানা শাহ মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ, ড. সামিউল হক ফারুকী, ড. আ ন ম রশিদ আহমাদ মাদানী, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ উলামা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তর উলামা কমিটির সভাপতি ড. মাওলানা মীম আতিকুল্লাহ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা শহীদুল্লাহ, মুফতি মহিউদ্দিন, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মুহাম্মাদ ইকবাল, ড. সাইফুল ইসলাম রফিক, মাওলানা লুৎফর রহমান, খালিদ সাইফুল্লাহ বখশী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ রুমী, মাওলানা আতিকুর রহমান নোমানী, মুফতি মিজানুর রহমান, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আ ন ম হেলাল উদ্দিন, ড. মাওলানা মহিউদ্দীন, রফিকুল ইসলাম মিয়াজী, মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, মাওলানা শাহীন হোসাইন চাঁদপুরী, মাওলানা গোলাম আযমসহ দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরাম।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ জুলাই-অভ্যুত্থানে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন অবদান তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্বৈরাচারের পুরো সময় জুড়েই আলেমগণ সরব ছিলেন। মসজিদের মিম্বর থেকে, মাহফিলের স্টেজ থেকে ও সভা-সমাবেশের মঞ্চ থেকে তারা তৎকালীন সরকারের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত বক্তব্য-বিবৃতি ও লেখনির মাধ্যমে তারা জনগণকে জুলুমের বিরুদ্ধে উজ্জীবিত করেন। এছাড়াও রাজপথে ছাত্র-জনতার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ফলে তাদের অনেককেই হামলা-মামলা, কারাবরণ, অপপ্রচারসহ অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটসমূহে টিয়ারশেল ও গুলীর সম্মুখে তারা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান। শহীদদের তালিকায় আলেম-উলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। দেশপ্রেমিক আলেমগণের এ অবদানের সাক্ষী এদেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। জুলাই পরবর্তী গঠিত সরকারের নৈতিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়ে আলেমগণের পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়া এবং দেশগঠনে তাদের সম্পৃক্ত করা। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে উপস্থিত উলামায়ে কেরাম সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।