রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডিএনসিসিকে একটি সর্বাধুনিক ও নাগরিক বান্ধব নগরীতে পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি আজ হাতিরঝিল লেকপাড় সংলগ্ন বটতলায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘উজ্জীবন’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আকিবের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোরাদ হোসেন মজুমদারের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন হাতিরঝিল পূর্ব থানার আমীর ও স্থানীয় কমিশনার প্রার্থী এ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান আজমী এবং থানা সেক্রেটারি খন্দকার রুহুল আমীন। উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, আইয়ুব আলী, ইসহাক আলী, তছির উদ্দীন, আখতারুজ্জান, জম্মুন খান, নজরুল ইসলাম, আবুল বাশার, ফরিদ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, শেহাবুল ইসলাম ও মানিক প্রমূখ।

মতবিনিময় সভা শেষে উজ্জীবনের পক্ষ থেকে সভাপতি সৈয়দ আকিব প্রধান অতিথিকে সংগঠনের লোগো সম্বলিত টি-শার্ট ও বার্ষিকী উপহার প্রদান করেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, অনির্বাচিত নগর প্রশাসন, অব্যবস্থাপনা, লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে নগরীতে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খানা-খন্দক, সেকেলে পয়োঃনিষ্কাষণ, জলাবদ্ধতা নগরজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। নিম্ননামের রাস্তাঘাট, মানহীন যানবাহন, খেলাধুলা সহ সুস্থধারার বিনোদন কেন্দ্রের অপ্রতুলতা, দুর্বল ও মানহীন শিক্ষা অবকাঠামো নগরীর প্রধান সমস্যারগুলোর অন্যতম। একবিংশ শতাব্দীতে এসে এ ধরনের নগর ব্যবস্থা কোন ভাবেই কাম্য নয়। তাই চলমান শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নত বিশে^র নগর ব্যবস্থাপনার সাথে সঙ্গতি রেখে ডিএনসিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর কোন বিকল্প। এ কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, এসব ক্ষেত্রে সরকারের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই নগরীকে সর্বাধুনিক মডেলে গড়ে তুলতে হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা সহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াত ডিএনসিসিকে একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নগরীতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখে। আমরা সে লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নগরবাসীর জন্য সুপ্রেয় পানীয় জলের ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন স্থানে পাম্প বসিয়ে সবার জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে সর্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য ‘নাগরিক সেবা ডটনেট’ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এ সেবার আওতায় টেলি মেডিসিন, এ্যাম্ব্যুলেন্স, ফিজিও থেরাপি ও ব্লাড ডোনেশন সেবা দেওয়া হচ্ছে। বেকারত্ম দুরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা ও কর্জে হাসানা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। আমরা ডিএনসিসিকে এমন এক আদর্শ নগরীতে পরিণত করতে চাই, যেখানে মানুষের জন্য সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। তিনি সে স্বপ্নের নগরী প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষ সকলের সার্বিক সহায়তা কামনা করেন।