সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

গত ২১ জুন শুরু হওয়া এই ম্যারাথন আলোচনা শেষে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে মধ্যস্থতাকারী দেশ দুটি এই যৌথ ঘোষণা দেয়। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটানো।

আলোচনার মূল বিষয় ও অগ্রগতিসমূহপ্রথম দফার এই শীর্ষ বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মতি ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে:

৬০ দিনের রোডম্যাপ: উভয় পক্ষই আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপে একমত হয়েছে।

লেবানন সংঘাত নিরসন: লেবাননে চলমান সামরিক সংঘাত ও লড়াই বন্ধ নিশ্চিত করতে চার দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তান) মিলে একটি বিশেষ 'ডি-কনফ্লিকশন সেল' (De-confliction cell) বা সমন্বয়ক সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে একটি বিশেষ যোগাযোগ লাইন চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর সাময়িক ছাড় (waiver) পাওয়া গেছে এবং কিছু অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করা অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি তদারকি: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের পুনরায় দেশে আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।