কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি ইরানের পুনর্গঠনে প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিলকে কেবলই একটি ‘আকাঙ্ক্ষা’ বা একটি সাময়িক ধারণা (aspirational number) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংখ্যাটিকে চূড়ান্ত কোনো বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
তহবিলের শর্ত ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকাযু
ক্তরাষ্ট্রের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি: কাতারের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবেই কেবল পারস্য উপসাগরীয় (গালফ) দেশগুলো এই তহবিলে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে।
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
অর্থায়নের উৎস: মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, পারস্য উপসাগরীয় ধনী দেশগুলো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেসরকারি কোম্পানি এই তহবিলের মূল জোগানদাতার ভূমিকা পালন করবে।
কাতারের নিজস্ব অবস্থান
আর্থিক অংশীদারিত্বে ধোঁয়াশা: এই তহবিলে কাতার সরাসরি কোনো আর্থিক অবদান রাখবে কি না, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি।
বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত: তিনি জানান, কাতারের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতি যেন সমৃদ্ধ হয়। তবে কাতারের যেকোনো বিনিয়োগ সবসময় সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক ও লাভজনক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই প্রাথমিক চুক্তির রূপরেখা অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে এই তহবিলের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও এর পরিচালনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।