বহুল প্রতীক্ষিত ইরান যুদ্ধের অবসান হয়েও কিন্তু হচ্ছে না। পক্ষকাল আগে সে শংকাই প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকরা। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলী আগ্রাসনের অবসান হলে বিশ্বের জন্য ভাল হতো এটা সবাই জানে। কিন্তু একটি পক্ষ যখন থাকে আমেরিকা ও তার আন প্রেডিক্টেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নেতানিয়াহু তখন সমস্যা থেকেই যায়।
ইরান যুদ্ধের কারণে শুধু ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশগুলোই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমগ্র বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থা। ১০৬ দিনের রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতের পর যুদ্ধাবসানের ঘোষণা দিয়েছিল উভয় দেশ। গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু তা লংঘনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ট্রাম্প ইরান নামক কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে না বলে হুমকি দিয়েছেন। ইরানও জবাব দিয়েছে। ফলে শান্তিচুক্তির বা সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ অজানা। মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের সাথে বৈঠক হবে বলে একদিকে ট্রাম্প বলছেন। অন্যদিকে ইরান বলছে, এই সপ্তাহে দোহায় কোনো বৈঠক নেই।
মার্কিন-ইরান আলোচনা: সর্বশেষ খবর কী? গত সপ্তাহান্তে দু’দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পরই কূটনৈতিক তৎপরতা আবার শুরু হয়। ওই হামলা ১৭ জুনের চুক্তিকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। ১৪ দফার ওই চুক্তিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন জটিল বিষয়ের সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন আলোচকদের দোহায় পৌঁছানোর একদিন পর, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আলোচনার জন্য ইরানি কর্মকর্তাদের সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আল জাজিরা জানাচ্ছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি দোহায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ১৭ জুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ৬০ দিনের জন্য বর্ধিত করা হয়। তারা মতপার্থক্য নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয় , যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম আলোচ্য বিষয়। কিন্তু ইরানের ওপর মার্কিন বোমাবর্ষণ, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর ইরানি হামলা এবং লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। ওয়াশিংটন যদিও বলেছে যে তারা দোহায় তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবে, তেহরান তা অস্বীকার করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা কী বলছেন? মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন যে, আলোচনার ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্প প্রশাসন একটি “চমৎকার অবস্থানে” রয়েছে। ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “স্বাভাবিকভাবেই” চায় আলোচনা সফল হোক, তা ব্যর্থ হলেও তার দেশ ইরানের চেয়ে “এখনও অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে” থাকবে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের ওপর ইরানের যেকোনো হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নেবে। ভ্যান্স বলেন, একটি স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলোচনা সফল হলে ইরান “স্থায়ীভাবে রূপান্তরিত” হবে। এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার বিভিন্ন বিকল্প সামনে তুলে ধরা হলে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের বলেন যে, তিনি কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতেই বেশি আগ্রহী এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়াতেও ইচ্ছুক।
ইরান কী বলেছে? তেহরান দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কথা অস্বীকার করে বলেছে অনেক ইরানি নেতা সেখানে উপস্থিত নেই। ইরান বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করতে মধ্যস্থতাকারী কাতারের সাথে পরোক্ষ আলোচনা করবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান আশা করছে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র জব্দকৃত ইরানি তহবিলের ৬ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বুধবার ইরানি আলোচকরা ওই তহবিল এবং সমঝোতা স্মারকের অন্যান্য উপাদান নিয়ে কাতারের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার জন্য দোহায় থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, ভ্যান্স সরাসরি প্রযুক্তিগত আলোচনাকে স্বীকৃতি দিতে ইরানের অস্বীকৃতিকে “আলোচনার কৌশল” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে খবর। তারা সরাসরি আলোচনা চায়না কেন এ প্রশ্নে বিশ্লেষকরা বলেন, মার্কিন পক্ষের প্রতি তাদের বিশ্বস্ততার অভাব রয়েছে।
পরিস্থিতি কি আবার অজানা গন্তব্যে যাচ্ছে? অনেক বিশ্লেষক এমনটাই মনে করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন যে ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে এবং সে অনুযায়ী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দু’পক্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। দোহায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।’ তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মার্কিন প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি জানান যে, এ সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ‘কারিগরি আলোচনা’ নির্ধারিত নেই। অবশ্য তিনি এ-ও যোগ করেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের সাথে তাদের পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আলজাজিরা বলেছে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। তবে তাদের সঙ্গে ইরানের কোনো কর্মকর্তার সরাসরি বৈঠক হবে না। কাতার আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় জব্দ থাকা ইরানের ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের স্থগিত সম্পদ এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে সরাসরি বৈঠক না হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানি সূত্র জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া আগের কারিগরি আলোচনার চেয়ে মঙ্গলবারের দোহার এই বৈঠকের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। মূল নজর ছিল হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তেজনা কমিয়ে আনার ওপর।
আগেই বলেছি, গত ১৭ জুন চার মাসের সঙ্ঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর অধীনে দুই পক্ষই বৈরিতা বন্ধ করতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে সম্মত হয় । এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে চলে গিয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় এবং ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করে। এ চুক্তির ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আগামী ৬০ দিন আরও গভীর আলোচনার পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ বিরতি লংঘন সেই আশার গুড়ে বালি দিয়ে দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে, এ চুক্তির আওতায় কাতারে আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মধ্যে প্রথম দফায় ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করে ইরানে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি এই সমঝোতা স্মারককে ইরানের জনগণের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্লেষক আব্বাস আসলানির মতে, চুক্তির অন্যান্য দিক স্থবির হয়ে পড়লেও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াটি দু’পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সঙ্ঘাত : গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর থেকে দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বেশ কয়েক দফা হামলা ও পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। ইরান রোববার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ আগেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এমন একটা সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তি দেখাব না এবং সামরিকভাবে কাজ শেষ করতে বাধ্য হব। তেমনটা হলে ইরান নামক কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে না।’ ট্রাম্পের এ বার্তার পরপরই কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায় যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবেলা করছে, অন্যদিকে বাহরাইনেও সতর্কসঙ্কেত বেজে ওঠে। ইরানের ইসলামি রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগামী দিনগুলোতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
ইরান যুদ্ধের সময় লেবাননও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার শিকার হয়। যুদ্ধ বন্ধে সেখানেও চুক্তির খবর মিলছে। তবে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহর অন্যতম সহযোগী ও লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
চুক্তির দু’মাসের রূপরেখায় কী ছিল : সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে, যা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বিনিময়ে ইরান অবিলম্বে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্থগিত রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি নগদ অর্থ স্থানান্তর, আঞ্চলিক দেশগুলোর আর্থিক সহযোগিতা এবং বিশেষ ঋণসুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়াও চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না। পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান সম্মত হয়েছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না।
যেহেতু উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লংঘন করেছে, আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়েছেন তার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পাবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান নিঃসন্দেহে বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর ছিল। তবে এখন মনে হচ্ছে অনেক সমীকরণই বদলে যেতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক পরিপক্বতার ওপর তা নির্ভর করছে। একটি নিরাপদ বিশ্ব উপহার দেয়া যদি তাদের লক্ষ্য হয়ে থাকে তবে তা কিছু হেরফের ছাড়া ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হবে। এর ব্যত্যয় হলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া বিচিত্র নয়। তবে কেউ সংঘাত চায় না, সেটাই বড় কথা। আগামী কয়েক দিনে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।