॥ মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী ॥
বর্তমান দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে চাপা আতঙ্ক ও ভয়-ভীতি এবং ক্ষোভ দানা বাঁধছে, তা কোনভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিকার অবস্থা এবং সরকারের উদাসীনতায় জন্য একের পর এক খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, লুটপাট, জবরদখল, শারীরিক নিগ্রহ, ভাঙচুর, পিটিয়ে হত্যা করা, ছিনতাই এবং সহিংসতার ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাদকের ভয়ঙ্কর থাবা। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এ সকল বিচার প্রক্রিয়ায় মন্থরগতি। দৈনন্দিন অপরাধ হচ্ছে, কিন্তু বিচার মিলছে না অথচ অপরাধীর জামিন মিলছে এটাই বড় দুঃখজনক। এ ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি কি গোটা বাংলাদেশকে এক অন্ধকার গহরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে না।
দেশের নানা প্রান্ত বা এলাকা থেকে প্রতিদিন যে খবরের শিরোনাম উঠে আসছে, তা রীতিমত শিউরে উঠার মতো। শিশু-নারী নির্যাতন, কিশোর গ্যাংয়ের মত জঘন্য অপরাধ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়াতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিরাজমান। একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই হচ্ছে বিচার বিভাগের মূল কাজ। অথচ দেশ হতে শাস্তি পাওয়ার ভয়টাই উঠে গিয়েছে। অপরাধীরা টাকা পয়সার বিনিময়ে এক এক করে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় তার পুরনো পেশায় আরো সক্রিয় হতে দেখা যায়। এদের বেশিরভাগই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়। তোলাবাজি, হামলা, ভাঙচুর, বাড়িঘর ও জমি দখল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘিœত করার মত অপরাধ দমনে জাতীয় সংসদে কঠোর আইন পাশ জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশে গুন্ডা বাহিনীর তৎপরতা, কিশোর গ্যাং এবং পিটিয়ে মানুষ হত্যা করার মতো মব ভায়োলেন্সকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না।
প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মূল দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধ দমন করা এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা। রাজনৈতিক রং না দেখে, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখা এখন সময়ের দাবি। এমতাবস্থায় বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে দেশ থেকে সকল প্রকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হানাহানি, শিশু-নারী নিগ্রহ এবং অরাজকতা এবং অস্থিরতা দূর করা জরুরি। রাজধানীজুড়ে স্মার্ট সিসিটিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপরাধীদের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। বলে রাখা ভালো, শান্তি ও উন্নয়ন হচ্ছে একটি অবিচ্ছেদ্য ধারণা। কোন দেশের টেকসই উন্নয়নের মূল শর্ত হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি। দেশে শান্তি বজায় থাকলে সামাজিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষার বিকাশ ঘটে। এর বিপরীতে সংঘাত বা অস্থিতিশীলতা দেশের গোটা অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দারিদ্র্য বাড়িয়ে দেয়।
সরকার দেশবাসীকে শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা দিবে নাকি বিচারহীনতায় আবদ্ধ রাখবে নাকি সুশাসনের পথ দেখাবে সেটাই প্রশ্ন।