এবারের ফিফা বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলো নিয়ে আয়োজকরা দর্শকদের আধুনিকতা আর অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার কথা জানিয়েছিলো। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই স্টেডিয়াম নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার টরেন্টো স্টেডিয়াম (বিএমও ফিল্ড)। গ্যালারি বাড়াতে তৈরি করা বিশাল আকৃতির মাচা থেকে অনবরত পানি চুইয়ে পড়া এবং লড়বড়ে কাঠামোর কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ৪৩,০৩৬ আসন বিশিষ্ট এ স্টেডিয়াম। এমনকি তীব্র বাতাসে বসার সিট কাঁপছে- এমন ভিডিও এবং খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফুটবলপ্রেমীরা একে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাজে স্টেডিয়াম বলে সমালোনা করা শুরু করেছেন। বসনিয়ার বিপক্ষে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের মঞ্চ বিএমও ফিল্ডকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বিশ্বকাপের ভেন্যু হলেও এটিকে দেখতে ইংল্যান্ডের সাধারণ ঘরোয়া ক্লাব জিলিংহাম-এর মাঠের মতো লাগছে। এমএলএস-এর দল টরন্টো এফসি এবং কানাডিয়ান ফুটবল লীগের টরন্টো অ্যারগোনটস-এর ঘরের মাঠ হিসেবে পরিচিত এই বিএমও স্টেডিয়াম-কে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বড় ধরনের সংস্কার করা হয়েছিল। স্টেডিয়ামটির মূল ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৩০ হাজার, যা বিশ্বকাপের ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে সবচেয়ে ছোট। কিন্তু ফিফার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও দর্শক ধারণক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে এই স্টেডিয়ামে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা) খরচ করে নতুন করে ১৭,০০০ অস্থায়ী আসন যুক্ত করা হয়। যার ফলে ধারণক্ষমতা ৪৩,০৩৬ এ নিয়ে যাওয়া হয়। তবে উত্তর ও দক্ষিণ গ্যালারির এই বিশাল অংশটি তৈরি করা হয়েছে সাধারণ লোহার পাইপের অস্থায়ী কাঠামো দিয়ে। ফলে এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর যে কাঠামো দাঁড়িয়েছে, তা দেখে এখন ফুটবলপ্রেমীরা প্রশ্ন তুলছেন-বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে স্টেডিয়ামটি তারা তৈরি করে ফেললেন না তো? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্টেডিয়ামটির কুৎসিত ও দৃষ্টিকটু অস্থায়ী কাঠামোটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে ওই অস্থায়ী দৃষ্টিকটু অস্থায়ী কাঠামোটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে ওই অস্থায়ী গ্যালারির আসনগুলো পুরোপুরি ভিজে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ দর্শকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, এত নিম্নমানের ব্যবস্থার পরও কেন টিকিটের দাম এত আকাশচুম্বী রাখা হলো? গত মে মাসে মেজর লিগ সকারের একটি ম্যাচে এই অস্থায়ী গ্যালারি উদ্বোধনের সময়ই আমেরিকান গণমাধ্যম দি অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেডিয়ামে তীব্র বাতাস শুরু হলে দর্শকদের বসার আসনগুলো রীতিমতো কাঁপতে শুরু করে। বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চে গ্যালারির এমন নড়বড়ে অবস্থা ফুটবল ভক্তদের মনে তীব্র ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করেছে। গ্যালারির ওপর কোনো ছাদ না থাকায় রোদ-বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাসে দর্শকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।