স্টাফ রিপোর্টার : ভারতের সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত ওয়াকফ বিল বাতিল ও মুসলিম নিধন বন্ধের দাবিতে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে গণমিছিল নিয়ে রওনা হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
গতকাল বুধবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর পাদদেশ থেকে এ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর, নায়েবে আমীর, মহাসচিবসহ অন্যান্য নেতারা।
এর আগে, গণমিছিলের ডাক দিয়ে বিতরণ করা লিফলেটে খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রায় ২৫ কোটি মুসলমানের বসবাস। ১৯৪৭-এ দেশভাগের পর থেকেই ভারতে মুসলমানদের বঞ্চনা শুরু। মুসলমানের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়নের এই উন্মত্ততা ধীরে ধীরে গোটা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। হিন্দু উগ্রবাদী বিজিপি সরকারের অধীনে এই নির্যাতন বহুমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে, অব্যাহত ধ্বংসযজ্ঞ, দখল, অবৈধ অধিগ্রহণকে আইনি বৈধতা দিতে সম্প্রতি ভারতের সংসদে নিবর্তনমূলক বিতর্কিত ‘ওয়াকফ আইন সংশোধনী বিল ২০২৫’ পাস হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পত্তি (মসজিদ, কবরস্থান, মাদরাসা, খানকা ইত্যাদি) রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের আওতায় চলে যাচ্ছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ, যাতে মুসলিম সমাজকে ধ্বংস করা যায়। নতুন সংশোধনীতে ওয়াকফ বোর্ডের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, অমুসলিমদের (মূলত হিন্দুদের) সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, কোনো সম্পত্তি ওয়াকফ বলে বিবেচিত হবে, কোনটা হবে না, সরকারকে তা নির্ধারণের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ ওয়াকফ সম্পদ পরিচালনা ও ভোগের একমাত্র হকদার মুসলমামরা।
এতে আরও লিখা হয়, ভারতে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে প্রায় ৯ লাখ স্থাপনা রয়েছে, জমির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ একর। এসব সম্পদের দাম আনুমানিক দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার। সবমিলিয়ে হিসেব করলে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও রেলওয়ের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ভূমির মালিক হচ্ছে মুসলমানদের ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান।