মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ীতে তালাকের পর সাবেক স্ত্রীকে মারধর, ভয়ভীতি দেখানো এবং কর্মচারীর কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী টংগীবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের ফারজানা আক্তার তুহা (৩২) এর সাথে আড়িয়ল গ্রামের সাকাওয়াত হোসেন রিকুর (৪০) এর ১৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর পারিবারিক কলহের জেরে এক বছর আগে তুহা তার স্বামীকে তালাক দেন।

তালাকের পর থেকে সাকাওয়াত হোসেন রিকু ও তার বড় ভাই ইমরান মোল্লা (৩৫) বিভিন্ন সময়ে তুহা ও তার পরিবারকে মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শুক্রবার ( ২৬ জুন) বুধবার সকাল ১টার দিকে টংগীবাড়ী সদরের সোনারং এলাকায় তুহার গরুর খামারের কর্মচারী নাবিন শেখ (১৬) দুধ বিক্রি করতে গেলে বিবাদীদ্বয় তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারে। এসময় গরুর খাবার কেনার জন্য তার কাছে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।

একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পলাশপুরে তুহার বাড়ির সামনে তালাক দেওয়া স্বামী তুহাকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। এসময় ১নং বিবাদী ইমরান মোল্লা তার ওড়না জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে গলায় পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

তুহার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে টংগীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে টংগীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”