বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাটকীয় এক লড়াইয়ের পর ১-১ গোলে ড্র করেছে মিশর ও ইরান। তবে এই ড্র-ই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখেছে মিশরের জন্য। তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট সংগ্রহ করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি।

অন্যদিকে, জয়ের খুব কাছে গিয়েও ভিএআরের সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হওয়ায় ইরানের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। মাত্র পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। মোহাম্মদ সালাহর বাঁ-পায়ের বাঁকানো শট ইরানের গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বলে সুযোগ পান সাবের।

তার নেওয়া শট একাধিক খেলোয়াড়ের পায়ের ফাঁক গলে জালে জড়িয়ে যায়। এটি বিশ্বকাপে মিশরের ইতিহাসে দ্রুততম গোল।

গোল হজমের পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ইরান। বক্সের ভেতরে মেহদি তারেমিকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি তারেমি। মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ শোবেইর দারুণ ডাইভ দিয়ে শট ফিরিয়ে দেন।

পেনাল্টি মিসের হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৫তম মিনিটেই সমতায় ফেরে ইরান। এজাতোলাহির শট শোবেইর ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে রামিন রেজাইয়ান অসম্ভব কোণ থেকে জালে বল পাঠান। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় গোল করে দলকে লড়াইয়ে ফেরান তিনি। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপে ইরানের দ্রুততম গোলের রেকর্ডও হয়ে যায়।

বিরতির পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে ইরান মনে করেছিল তারা ইতিহাস গড়ে ফেলেছে। একটি ফ্রি-কিক থেকে সৃষ্ট আক্রমণে বল জালে পাঠান খালিলজাদে। কিন্তু ভিএআর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গোলের মুহূর্তে তিনি অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। এই সিদ্ধান্তে ইরানের উচ্ছ্বাস মুহূর্তেই হতাশায় পরিণত হয়।

শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। তিনটি ড্র থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ইরানকে এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। আর পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে মিশর। ভিএআরের এক সিদ্ধান্তই দুই দলের ভাগ্যকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে নিয়ে গেল।