গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক এলাকায় জুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল মহড়া, চাঁদাবাজির চেষ্টা, পথরোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৯ জন এজাহারভুক্ত এবং ২ জন তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া আসামি। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন ২০২৬ বেলা প্রায় ১২টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক এলাকার ফকির মার্কেট সংলগ্ন ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেডের সামনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেলে করে আনুমানিক ১০০ জনের একটি দল মহড়া দেয়। এ সময় তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গার্ড বাধা দেন। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ৮ থেকে ১০ জন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে তারা জুট ব্যবসা নিয়ে বিভিন্ন শর্ত আরোপের চেষ্টা করে এবং সমঝোতা ছাড়া কোনো জুট বাইরে নিতে নিষেধ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ নুরুজ্জামান জামাল ও তার সহযোগীদের পথরোধ করে চাঁদা দাবি এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মোঃ নুরুজ্জামান জামালের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা নং-২, তারিখ ২ জুলাই ২০২৬, পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪১/৩৮৫/৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তৌহিদুল ইসলাম সজীব (৩৫), মোঃ রনি খাঁ (৩৯), মোঃ মনোয়ার হোসেন (২৮) কে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২ জুলাই আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মোঃ রিয়াজন ওরফে রাজন (৩০), জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে জমির (২৭), জহির (৩৩), বায়জিদ (২৯), রাজিব হাসান (২৯), হোসাইন (৩৪), মোঃ রাসেল ওরফে খাবরী (২৮) এবং মোঃ সাগর ওরফে নয়ন (২০)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।