বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লক্ষ্য কেবল একটি শ্রমিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা নয়, বরং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিকরা বৈষম্য, কম মজুরি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের শিকার হলেও তাদের প্রকৃত কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা গেছে।
দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বন্দর কিংবা রপ্তানি খাতÑসর্বত্র শ্রমিকের ঘাম ও শ্রম জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি। অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক শ্রমিক এখনো ন্যায্য মজুরি ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তাই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক খানের সভাপতিত্বে গতকাল শুক্রবার যশোরের জেলা পরিষদে (বিডি হল) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার উদ্যোগে আয়োজিত এক ‘দায়িত্বশীল সমাবেশে’ প্রধান অতিথি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এ কথা বলেন।
বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা প্রায় ৫৫ বছর পার করছি। এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকারকে আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার আসে, সরকার যায়, নীতি বদলায়, বাজেট আসে-যায় অথচ শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা কখনো ঘোরে না।
কৃষি শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন,পার্লামেন্টে যখন বলা হয় বাংলাদেশ কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তখন মন্ত্রীরা ভুলে যান যে এদেশের কৃষি শ্রমিকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, এমনকি বজ্রপাতে প্রাণ দিয়ে এই ফসল ফলিয়েছেন। সরকার বাহবা নিলেও কৃষকদের প্রকৃত সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তিনি শোষণমুক্ত সমাজ ও ইনসাফের রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে মাঠে-ময়দানে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সকল শহীদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইসলামের ন্যায়, ইনসাফ ও মানবকল্যাণের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবী আদর্শ অনুসরণ করে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা ও মানবসেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক গোলাম রসুল আরো বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায়, নির্যাতিত ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সংগঠনকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর ৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক,সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক নূর ই আলি নুর আল মামুন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন , সদস্য রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আশিকুল্লাহ, মনিরুজ্জামান, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তাব্য রাখেন,আব্দুল হাই ছিদ্দিক,রইচ উদ্দিন, নুরুল ইসলাম বাবুল,আলিমুজ্জামান,আব্দুল সালাম ,আলমগির কবির,হাবিবুর রহমান,মাহাবুবুর রহমান। সমাবেশে সঞ্চালনা করেন যশোর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারি সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।