বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুলাই অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডা থানার সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ মো. রায়হান হোসেনের সম্মানিত পিতা মো. মোজাম্মেল হক। এরপর কেন্দ্রীয় সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এমপি এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, এমপি, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
অধিবেশনে কেন্দ্রের ষাণ্মাসিক রিপোর্ট পর্যালোচনা, জেলা সংগঠনের সেটআপ অনুমোদন, ক্যাম্পাস পরিস্থিতি পর্যালোচনা, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৬ সেশনের কার্যকরী পরিষদের উপনির্বাচনে নির্বাচিত ১২ জনের নাম ঘোষণা করেন। এ ছাড়া কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের পরামর্শক্রমে একজন সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করেন। পরে তিনি নবনির্বাচিত ও নবমনোনীত কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
সমাপনী অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, “সর্বস্তরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, আদর্শিক ও দায়িত্বশীল জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক সদস্যকে নিজের পড়ার টেবিলকেই আন্দোলনের ময়দান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পর্দা, তাকওয়া, নৈতিকতা ও আমানতদারিতার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা আজ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছি এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হতো না। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই আজ আমাদের সবার প্রধান দায়িত্ব।
শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে এবং দেশের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ছাত্রসমাজকে সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিশেষে বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশন-২০২৬-এর সমাপ্তি ঘটে।