ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা ছাড়াও বিরোধী দল ভারতীয় কংগ্রেসের অন্যান্য সদস্যদেরও আটক করা হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শুরু হওয়া তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তুদিল্লিতে তাদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় পুলিশ। এরপর গতকাল দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান নেন কংগ্রেস নেতারা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গত সোমবার তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভে পুলিশ যে হামলা চালিয়েছে সেটির জবাব নিতে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যান কংগ্রেস নেতারা।
তারা দীর্ঘক্ষণ অবস্থান নেওয়ার পর মোদি সরকার প্রাথমিক দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানায়। এরপরও অবস্থান নেওয়ায় তাদের জোরপূর্বক আটক করা হয়। রাহুল গান্ধীকে যখন পুলিশ সদস্যরা ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তার নাক থেকে রক্ত বের হতে দেখা গেছে।
এদিকে তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। এরপর তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও মারধর করা হয়।
এ নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জবাব মোদি সরকারকে দিতে হবে এবং ভারতীয় তরুণদের ভবিষ্যত নষ্ট করার জন্য মোদিকে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে।
তেলাপোকাদের আন্দোলন চলবে
এএনআই জানায়, সংসদ ভবন অভিযান চলাকালে গত সোমবার বিকেলে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ধরনামঞ্চ ভেঙে দিয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে সেখানেই ফিরে এসেছেন আন্দোলনকারী নেতারা। সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরেই তাঁরা ধরনা চালাবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই থাকবেন। তবে নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানে শামিল যাচ্ছেন না।সকালে ধরনামঞ্চে ফিরে এসে অভিজিৎ দিপকে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক তাঁরা দিচ্ছেন না। কারণ, তাতে পুলিশের উদ্দেশ্য সফল হবে। পুলিশ আবার শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করবে। তাঁদের বদনাম করবে। সে সুযোগ পুলিশকে তাঁরা দেবেন না।অভিজিৎ বলেন, সরকারের মুখ পুড়েছে। তারা চাইলে এমন ঘটনা ঘটত না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করলে এই আন্দোলনের প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু সরকার নির্লজ্জ। বিজেপির নেতারা উদ্ধত।সিজেপির আন্দোলনে সাড়া দিয়ে সংসদ ভবন অভিযানে শামিল হওয়া আহত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে অভিজিৎ গতকাল মঙ্গলবার সকালেই এক বার্তা দেন। এক্সে সেই বার্তায় তিনি লেখেন, ‘পুলিশি বর্বরতায় আপনারা আহত হয়েছেন। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অমানবিক দিল্লি পুলিশের নৃশংসতা থেকে আপনাদের রক্ষা করতে পারিনি।’অভিজিৎ লিখেছেন, একজন ধর্মেন্দ্র প্রধান, যিনি ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের রক্তাক্ত করল। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের প্রত্যেকের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আপনাদের সবার স্বার্থে এই লড়াই জারি থাকবে।’ঘটনার জন্য দিল্লি পুলিশ যেমন আন্দোলনকারীদের দায়ী করছে, আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ ও বিরোধীরা তেমন দায়ী করছেন পুলিশ ও সরকারকে। সিজেপি ও বিরোধীরা বলছেন, পুলিশ লাঠি না চালালে, কাঁদানে গ্যাস না ছুড়লে এমন হতো না। তারা ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে চাইল বলেই হিংসা ছড়াল। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ছাত্ররা তাদের আক্রমণ করেছে।ঘটনায় পুলিশ ৫টি এফআইআর দাখিল করেছে। ৭০ জনের বেশি ছাত্রছাত্রীকে আটক করেছে। পুলিশ দেখতে চাইছে, এই আন্দোলনের পেছনে বৃহত্তর কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না। শান্তি–শৃঙ্খলা নষ্ট করার মধ্য দিয়ে অন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে কি না।পুলিশের দাবি, তাদের ১১৮ জন কর্মী জখম হয়েছেন। সিজেপির দাবি, শতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কয়েকজনের আঘাত গুরুতর।সংসদমুখী যাত্রা যে এমন মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, সেই অনুমান দিল্লি পুলিশ করতে পারেনি। সরকারও নয়। সরকারি এক সূত্র স্বীকার করে, আন্দোলনকারীরা এত বিপুল সংখ্যায় জড়ো হবেন, চারদিক থেকে সংসদের দিকে এগিয়ে যাবে, পুলিশি প্রতিরোধে ভয় পাবে না—এ ধারণা সরকার ও পুলিশের ছিল না। নিঃসন্দেহে এটা গোয়েন্দা ব্যর্থতাও।ওই সূত্রের মতে, পুলিশ ভেবেছিল, হয়তো কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী জড়ো হবেন। ব্যারিকেড ভেঙে তাঁরা এগোবেন না। কিন্তু হাজারে হাজারে তরুণ-তরুণী এভাবে চলে আসবেন, কল্পনা করা যায়নি। পুলিশি হিসাবে কম করেও ৫০ হাজার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশ স্বীকার করছে, গত ৪০ বছরে কোনো আন্দোলন এভাবে সংসদ ভবনের এত কাছে চলে আসতে পারেনি।
ককরোচ পার্টির আন্দোলনের মধ্যেই রাস্তায় নেমেছেন কৃষকরা
প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েতে’ যোগ দিতে যাওয়ার পথে ফের অবরুদ্ধ হয়েছেন পাঞ্জাবের শত শত কৃষক। গতকাল মঙ্গলবার পাঞ্জাব থেকে যাত্রা শুরু করা এই কৃষক বহরকে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তের শম্ভু সীমানায় আটকে দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ। এনডিটিভি, এক্স, এএফপি, দ্য হিন্দু।
একদিকে ভারতের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি রক্ষার তাগিদে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে অবরুদ্ধ কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ হাঁক, অপরদিকে প্রশাসনিক নীতি ও ব্যবস্থার প্রতিবাদে তরুণ ও নাগরিক সমাজের অভিনব ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ আন্দোলন- এই দুইয়ের ধাক্কায় দিল্লি এখন এক চরম দ্বিমুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে। চাপের মুখে মোদি সরকার।
সীমান্তেই প্রতিবাদ মঞ্চ
দিল্লিতে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা শম্ভু সীমান্তকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিবাদ স্থান বানিয়ে বসে পড়েছেন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা-উভয় সরকারের বিরুদ্ধে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমাবেশের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ এনেছেন কৃষক নেতারা।
বিকেইউ (শহীদ ভগৎ সিং) নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ অন্যায়ভাবে পাঞ্জাবের ভূখ-ের ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে, আর পাঞ্জাব সরকার বাধা না দিয়ে ‘নীরব দর্শক’ হয়ে রয়েছে। তবে পাঞ্জাবের বহর আটকে দেওয়া হলেও হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকরা কিন্তু দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
কেন এই প্রতিবাদ?
‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের একাধিক কৃষক সংগঠন একযোগে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০২৬ সালের শরতের মধ্যেই প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা হবে।
কৃষক নেতাদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি নয়। এতে ভারতের কৃষি, ডেইরি বা দুগ্ধশিল্প, শিল্প খাত, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, মেধা সম্পত্তি অধিকার এবং পরিষেবা খাতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় যুক্ত রয়েছে।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ওপর প্রভাবের শঙ্কা
মার্কিন পণ্যে ছাড়: যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিবেদনে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বাজারে আমেরিকান সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য ও হাঁস-মুরগির মাংসের ওপর শুল্ক কমানোর চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অসম প্রতিযোগিতা: যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি ও ডেইরি খাতে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেয়। আমেরিকান সস্তা পণ্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করলে ভারতের লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে পড়বেন।
৮ কোটি পরিবার ঝুঁকিতে: ভারতের দুগ্ধ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবার নির্ভরশীল। কৃষক সংগঠনগুলোর মতে, এই খাতে আঘাত লাগলে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প তছনছ হয়ে যাবে।
স্বচ্ছতার দাবি ও আল্টিমেটাম
চুক্তি সংক্রান্ত নথিপত্র গোপন রাখা হচ্ছে অভিযোগ তুলে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ দাবি জানিয়েছে, কেন্দ্র সরকারকে অনতিবিলম্বে ভারত-মার্কিন প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির সমস্ত নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদক, শ্রমিক ও মূল অংশীদারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও সম্মতি ছাড়া যেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা হয়— এমনই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কিষাণ মোর্চা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলন
সিজেপির আন্দোলনের প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনইইটি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস। দলটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের কাছে প্রশ্ন বিক্রি হওয়ায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মোদির বাসভবনের সামনে
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিক্ষোভ
বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার একদিন পর কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। এর আগে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন নীরব ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, সোমবার দিল্লিতে যা ঘটেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কেন চুপ? পুলিশের হাতে মার খাওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ক্ষমাও চাননি। তাঁর উচিত মুখ খুলে এই অযৌক্তিকতা বন্ধ করা।’ রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দিল্লির আরএমএল হাসপাতালে আহত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এর আগে, সংসদ অধিবেশনের আগে মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস নেতা লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানান। এক পোস্টে রাহুল বলেন, ‘আজ বিরোধী দলের সাংসদদের সঙ্গে লোকসভার মাননীয় স্পিকারের সঙ্গে দেখা করলাম। আমাদের দাবি সোজা—গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নৃশংসতা এবং পরীক্ষা-সংকট নিয়ে সরকারের সম্পূর্ণ জবাবদিহির অভাবের বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলায় শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে রাহুল বলেন, ‘সংসদ যদি ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে না পারে, তাহলে এর উদ্দেশ্য কী?’ বিষয়টি চাপা পড়তে না দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল শিক্ষার্থীদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। আমরা এই বিষয়টি চাপা পড়তে দেব না। আমরা নিশ্চিত করব, যাতে রাস্তায় এবং সংসদে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর শোনা যায়।’
মোদিকে ক্ষমা চাইতে বললেন রাহুল গান্ধী
ভারতের দিল্লিতে প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ঘটনাকে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর ‘নির্মমতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাহুল গান্ধী প্রশ্ন ছুড়ে দেন—শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন নীরব রয়েছেন? তিনি এ ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব? পুলিশ যেসব শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে, তাদের কাছে তিনি এখনো ক্ষমা চাননি। তার কথা বলা উচিত এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ বন্ধ করা উচিত।’ এর আগে মঙ্গলবার সকালে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে রাহুল গান্ধী বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান। পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট—গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্মমতা এবং পরীক্ষা সংকট নিয়ে সরকারের জবাবদিহিতার অভাব সম্পর্কে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। রাহুল প্রশ্ন করেন, ‘যদি ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে আলোচনা না হয়, তাহলে সংসদের কাজ কী?’
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল এ বিষয়টি চাপা পড়তে দেবে না এবং শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ সংসদ ও রাজপথে তুলে ধরতে লড়াই চালিয়ে যাবে। গত সোমবার হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ অভিমুখে মিছিল করলে দিল্লিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ ঘটনায় শতাধিক পুলিশ সদস্য ও ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন বলে জানা গেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদে আলোচনা দাবি করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ন্যায়বিচারের দাবি জানানো শিক্ষার্থীদের কেন লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের মুখে পড়তে হলো। খাড়গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী একটি নির্ভুল ও নিরাপদ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন।
চ-১ (ঋ) ২০-০৭-২০২৬ ঐউ-৩৭
এবার পাটগ্রাম সীমান্তে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা
বিজিবির বাধায় পিছু হটল বিএসএফ
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
এবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কিন্তু বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। জানা গেছে, গত সোমবার পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী এলাকার তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৪৫/১-এস থেকে ৮৪৫/২-এস-এর মাঝামাঝি সীমান্ত এলাকায়ন এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পাটগ্রাম উপজেলাধীন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ১০০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে কুচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানাধীন পানিশালা (হাড়িকামাত) সীমান্ত এলাকায় পূর্বে স্থাপিত বাঁশের খুঁটি অপসারণ করে ভারতীয় ৯৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের পানিশালা-১ ক্যাম্পের সদস্য এবং কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার স্থায়ী সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করেন। ঘটনাটি বিজিবির নজরে এলে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হয়ে কাজে বাধা প্রদান করলে বিএসএফ সদস্যরা এবং তাদের সঙ্গে থাকা ভারতীয় নাগরিকরা পিছু হটতে বাধ্য হয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তিস্তা-৬১ ব্যাটালিয়ন বিজিবি কর্তৃপক্ষ।