আমাদের অবক্ষয় এখন অতীতের সকল সীমা অতিক্রম করেছে। আমরা এমনই এক হতভাগা ও আত্মঘাতী জাতিতে পরিণত হয়েছি যে, নিজেরাই নিজেদের খাদ্যে বিষ মিশিয়ে খাচ্ছি। ফলমূলে মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিনসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রণ সে কথারই প্রমাণ দেয়। এমনকি জীবনরক্ষাকারী ওষুধও আমাদের দেশে এখন নিরাপদ নয়। যে ওষুধ মানুষ জীবন রক্ষার জন্য ব্যবহার করে, সে ওষুধ নকল ও ভেজাল হওয়ায় জনস্বাস্থ্যই এখন হুমকির মুখে পড়েছে। কিন্তু এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। ফলে দিনের পর দিন বাড়ছে এদের দৌরাত্ম্য। যা আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের সক্রিয়তাকেই রীতিমত প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

নকল ওষুধ হলো এমন এক ধরনের ভেজাল বা অবৈধ চিকিৎসা পণ্য যা প্রতারণামূলকভাবে আসল ব্র্যান্ডের ওষুধের মতো ডিজাইন, নাম এবং মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করা হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর প্রতি ১০টি ওষুধের মধ্যে অন্তত ১টি নকল বা নিম্নমানের হয়ে থাকে। ওষুধ ক্রয়ের সময় সচেতন না হলে এটি সরাসরি মানুষের জীবননাশের কারণ হতে পারে। নকল ওষুধে সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান (Active Ingredient) একেবারেই থাকে না অথবা ভুল পরিমাণে থাকে। অনেক সময় আটা, ময়দা, চক পাউডার বা স্টার্চ দিয়ে ট্যাবলেট তৈরি করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এতে বিষাক্ত পারদ, আর্সেনিক বা ইঁদুর মারার বিষও পাওয়া গেছে। কোনো রকম গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ বা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এগুলো গোপন কারখানায় তৈরি করে বাজারজাত করা হয়। ফলে অজ্ঞতাবশত এসব ওষুধ কিনে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। একই সাথে জনস্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব। আর এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত আছে কিছু সংখ্যক বৈধ ওষুধ কারখানাও।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ওষুধ তৈরির অবৈধ কারখানাসহ দেশে নকল ওষুধ তৈরি হচ্ছে বেশ কয়েকটি বৈধ কারখানায়। রাজধানীর মিটফোর্ডকেন্দ্রিক একটি অশুভচক্র ওষুধ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদিত ৭৯টি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কারখানায় বিভিন্ন নামিদামি অ্যালোপ্যাথিক কোম্পানির ওষুধ নকল করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থা বেশ আগেই প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সরবরাহ করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে নকল করা হচ্ছে বিদেশী নামিদামি ওষুধও। আর নকল ওষুধ বিপণনের বড় হাট রাজধানীর মিটফোর্ড। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, নকল, ভেজাল ও নিম্মমানের এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নিকট অতীতে ২ হাজার ৩৬টি মামলা করা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ টাকা। গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, হুবহু ‘আসল’ মোড়কে গ্যাস্ট্রিক, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের নকল ওষুধ বাজারে ছাড়ছে সংঘবদ্ধ চক্র।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর ফকিরাপুলকেন্দ্রিক প্যাকেজিং ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন নামিদামি ওষুধ কোম্পানিগুলো এসব কারখানা থেকে বিভিন্ন ওষুধের মোড়ক তৈরি করে। কিছু প্যাকেজিং কারখানার অসাধুরা অর্ডারের অধিক পরিমাণে মোড়ক তৈরি করে, যা পরে নকলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করে দেয়। ফলে এসব মোড়কে নকল ওষুধ বাজারজাত হলেও আসল-নকল চেনার কোনো উপায় থাকছে না। আর রোগ সারানোর বদলে নকল ওষুধ মানুষের জীবনীশক্তিকেই নষ্ট করে দিচ্ছে।

সূত্র বলছে, রোগ সংক্রমণের ব্যাপকতায় বেশ কিছু ওষুধের চাহিদা বাজারে বেশি। গ্যাস্ট্রিক, প্রেসার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ ও অ্যাজমার ওষুধ অন্যতম। অতি মুনাফার লোভে এসব ওষুধ নকল করছে জালিয়াতচক্র। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এমন ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনের জন্য ২৮৪টি কোম্পানির অনুমোদন রয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। এছাড়া ২৮১টি ইউনানি, ৩৪টি হারবাল ও ২১২টি আয়ুর্বেদিক কোম্পানিকেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইউনানি, হারবাল ও আয়ুর্বেদিক কোম্পানিগুলোর কিছু স্বার্থান্বেষী মালিক তাদের নিজস্ব ওষুধ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যালোপেথিক কোম্পানির নকল ওষুধ তৈরি করছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশী ওষুধের সুনাম থাকলেও দেশজুড়ে ওষুধের অবৈধ বাণিজ্যে সীমাহীন নৈরাজ্য চলছে। নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগীরা। ক্রেতারা জানতেও পারছেন না তারা টাকা দিয়ে কী ওষুধ কিনছেন। ওষুধ বাণিজ্যের নৈরাজ্য রোধে ক্রেতা সচেতনতার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। সচেতনতা বাড়াতে নেই প্রচারের সুযোগ। উপরন্তু আইন করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওষুধ সম্পর্কিত প্রচারের ব্যবস্থাটি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তাররাও নতুন ওষুধ সম্পর্কে জানেন না। তাই অতিরিক্ত টাকা খরচ করেও কাক্সিক্ষত সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। উপরন্তু ভেজাল ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।

দেশের বৃহত্তর পাইকারি ওষুধের বাজার ঢাকার মিটফোর্ডে ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে মাঝে-মাঝেই অভিযান চালায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জালের মতো বিস্তৃত ভেজাল ও নকল ওষুধের নেটওয়ার্কে শত শত কোটি টাকার বিপণন হচ্ছে। শুধু জরিমানা ও লঘু শাস্তি দিয়ে এসব ভেজাল, নকলের দৌরাত্ম্য ঠেকানো যাচ্ছে না। কার্যকর তদারকির অভাবে একই চক্র বারবার সংঘবদ্ধ অপকর্মে জড়িয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে সর্বশান্ত করছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তথ্য মতে, বর্তমানে সারাদেশে নিবন্ধিত ওষুধের দোকানের সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার। এর মধ্যে গত দু’বছরে নতুন নিবন্ধন পেয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারাদেশে লাইসেন্সধারী ফার্মেসির প্রায় সমপরিমাণ লাইসেন্স ছাড়া ওষুধের দোকান রয়েছে। এ সংখ্যা দেড় লাখের বেশি হবে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির দুর্বলতার কারণে লাইসেন্সবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বহু ফার্মেসি। এসব দোকানের মাধ্যমেই ক্রেতাদের কাছে ভেজাল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা অতীতের সকল সীমা অতিক্রম করেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ওষুধ প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে তা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও তা স্থায়ী কোনো ফল বয়ে আনছে না বরং সাময়িক চমক সৃষ্টির পর অজ্ঞাত কারণেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন কুমিল্লায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পিকআপভর্তি নকল ও অননুমোদিত ওষুধ, কাঁচামাল, উৎপাদন মেশিন এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ২৭ জুন জেলা এনএসআই কুমিল্লা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত জেলা এনএসআই কুমিল্লার তথ্যের ভিত্তিতে এবং পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা মহানগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন শ্রীবল্লভপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পিকআপটি থেকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি ১৮ হাজার ৬৬০টি অননুমোদিত নকল ক্যাপসুল, ট্যাবলেট ও সিরাপ, প্রায় ১০০ কেজি ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল পাউডার, ৭ লিটার তরল কেমিক্যাল, প্রায় ২০ হাজার প্যাকেট ওষুধের লেবেল, ১৫ কেজি ফয়েল পেপার এবং নকল ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত তিনটি মেশিন জব্দ করা হয়। এ সময় নকল ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ চক্রের সদস্য অভিযোগে ১ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা গেছে, অভিযানের আগে থেকেই কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত একটি গুদামে মজুত থাকা এসব অবৈধ মালামালের ওপর জেলা এনএসআই নজরদারি চালিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে গুদাম থেকে মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার তথ্য পেয়ে এনএসআই সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেন। পরে পরিকল্পিত অভিযানে পিকআপভর্তি নকল ওষুধ, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দের পাশাপাশি চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, জব্দ কেমিক্যাল, মেশিন ও মোড়ক ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নকল ওষুধ উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু এতদিন এরা ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বছর দুই আগে রাজধানীর চকবাজারের একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে মোনাস-১০ ও প্যানটেনিক্স-২০ নকল ওষুধের চালান আটক করেছিলো ডিবি লালবাগ বিভাগ। এ সময় একজনকে গ্রেফতারের পর তার তথ্যমতে ফকিরাপুল এলাকা থেকে কারখানাটির মালিককে গ্রেফতার করা হয়। দু’জনের জবানবন্দি অনুযায়ী, রাজধানীর চকবাজার, ফকিরাপুল ও চুয়াডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১০ লাখ ৩৪ হাজার ২৮০ পিস নকল প্যানটেনিক্স-২০ ট্যাবলেট ও ১৮ হাজার পিস নকল মোনাস-১০ ট্যাবলেট। এর আগে চট্টগ্রাম শহরে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে ৩ হাজার ৬৪১ ভেজাল ওষুধ জব্দ করে র‌্যাব। এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে এন্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েডের মতো ওষুধও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর বৃহত্তর ওষুধের বাজার মিটফোর্ড কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের মফস্বল শহর ও গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ। ওষুধ প্রশাসনের নজরদারির অভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও ব্যবহার করতে হচ্ছে মফস্বলের ক্রেতাদের। এতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া প্রচলিত ওষুধগুলোর নকল ও ভেজাল তৈরি করে মফস্বলের ফার্মেসিগুলোতে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। এ নকল চক্রের হোতারা মাঝে-মধ্যেই র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ছে। জেল খেটে আবারও ফিরে আসছে একই পেশায়।

একথা কারো অজানা নয় যে, আমাদের দেশের ওষুধশিল্পে বিস্ময়কর উন্নতি ঘটেছে। তবে এ অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে দুর্বল তদারকি এবং ক্ষেত্র বিশেষে উদাসীনতার কারণে। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে যেখানে বিদেশী ওষুধের ওপর নির্ভরতা ছিল প্রায় শতভাগ, সেখানে ৫০ বছর পর বিশ্বের ১৪৭ দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদনে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ এখন এক নির্ভরতার নাম। শুধু সাধারণ নয়, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো এখন ভ্যাকসিন, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ওষুধ, ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে দেশের অন্তত ১৪টি কোম্পানি বিভিন্ন দেশে নিবন্ধন পেয়েছে। এর মাধ্যমে সেসব দেশে আরও বিপুল পরিমাণ ওষুধ রপ্তানির পথ প্রশস্ত হয়েছে।

দেশের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধের বাজারের ৯৭% শতাংশই স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর দখলে। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশের পুরো চাহিদা মিটিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে প্রতিবছর। এ গৌরবময় প্রেক্ষাপটের মধ্যেও এক শ্রেণীর নকলবাজ ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন করে সাধারণ মানুষকে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে ভেজাল ওষুধের নেটওয়ার্ক। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের জোরালো নজরদারি না থাকায় বেপরোয়া ভেজালকারীরা বারবার ফিরে আসছে।

মূলত, ওষুধ হলো এমন রাসায়নিক দ্রব্য যা প্রয়োগে প্রাণিদেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া প্রভাবান্বিত হয় এবং যা দ্বারা রোগ নিরাময় হয় বা প্রতিকার হয়, বা পীড়া ও ক্লেশ নিবারণ হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FDA) সংজ্ঞার্থ অনুসারে: ‘দ্রব্যসমূহ যা রোগ নির্ণয়ে, আরোগ্যে (cure), উপশমে (mitigation), প্রতিকারে (treatment), অথবা প্রতিরোধে (prevention) ব্যবহার করা হয়’ এবং ‘দ্রব্যসমূহ (খাদ্য বাদে) যা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর শারীরিক গঠন বা ক্রিয়াকলাপকে প্রভাবিত করতে পারে’ সেসবই ওষুধ। কিন্তু বাজারে ভেজাল ও নকল ওষুধের দৌরাত্ম্যে আসল ওষুধ চেনায় দায় হয়ে পড়েছে। ফলে নকল ওষুধ জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরকার ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উদাসীনতার কারণেই নকলবাজ ওষুধ প্রস্তুতকারীদের অপতৎপরতা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নকল ওষুধ প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ দরকার। বাড়াতে হবে সার্বক্ষণিক নজরদারিও। প্রচলিত আইনে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় না আনা গেলে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এই অসাধুচক্রের হাতে জনস্বাস্থ্যকে জিম্মি করার কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টরা যত তাড়াতাড়ি বিষয়টি উপলব্ধি করবেন ততই মঙ্গল।

www.syedmasud.com