‘একঘরে’ শব্দটির সাথে আমরা পরিচিত। যার চিন্তা-চেতনা ও কাজ-কর্মের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষের আপত্তি থাকে, তাকে একঘরে রাখার একটি তৎপরতা আমরা সমাজে লক্ষ্য করে থাকি। বিষয়টা অনেকটা বর্জনের মতো। আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। যেমনটি এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইসরাইলের ব্যাপারে। আমেরিকার থিংক ট্যাংক পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ইসরাইলের ভাব-মর্যাদা ক্রমেই নিচের দিকে নামছে। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে বাংলাদেশসহ ৩৬ দেশে জরিপ চালায় পিউ রিসার্চ। জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মানুষ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ দেশটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।

পিউ জানিয়েছে, বেভিরভাগ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ২য় ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। এ যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকটও বাড়িয়ে দিয়েছে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে; যেমন বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখন্ড পশ্চিম তীর ও পূর্বজেরুসালেমে ইসরাইলের প্রতি বৈরিতা বিশেষভাবে প্রকট ছিল। পিউ জানিয়েছে, তারা গাজায় জরিপ চালাতে পারেনি। ইউরোপীয় জনগণও কম বৈরী মনোভাব প্রকাশ করেনি। ইতালি, নেদ্যারল্যান্ডস ও স্পেনে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যক্তি বলেছেন, ইসরাইল সম্পর্কে তাদের অত্যন্ত নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।

পিউ রিসার্চের গবেষণার ফলাফল থেকে উপলব্ধি করা যায়, গাজায় গণহত্যার কারণে আন্তর্জতাকি পৃথিবীতে ইসরাইলের ভাবমর্যাদা আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। আর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর থেকে তা আরো খারাপ হয়েছে। পিউ জানিয়েছেন ট্রেন্ড ডেটা সহজলভ্য থাকা ২৪ দেশের মধ্য ১৩টি দেশে ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক প্রবনতা বেড়েছে। যেমন আর্জেন্টিনায় ২০২৫ সালে ৪৬ শতাংশ ব্যক্তি ইসরাইল সম্পর্কে প্রতিকূল ধারণা পোষণ করতেন। সে সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ৫৫ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া, পোল্যাণ্ড, বৃটেনেও অত্যন্ত প্রতিকূল ধারণা পোষণকারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। মার্কিন থিংক ট্যাংক পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি জরিপের কথা আমরা জানলাম। যার মূল কথা হলো, ইসরাইলের প্রতি বিশ্ববাসীর নেতিবাচক ধারণার মাত্রা বাড়ছে। এতে দেশটি ক্রমাগত একঘরে হয়ে পড়ছে। এর আসল কারণ ইসরাইল নিজেই। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি যে যুদ্ধাপরাধ চালিয়েছে তা কোনো বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারে না। এরপর ইরানের ওপর আগ্রাসন দেশটির অপরাধের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরাইলের অপরাধ তো বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট, কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইসরাইল কি তার অপরাধের শাস্তি পেয়েছে? না পাওয়ার কারণ, বর্তমান সভ্যতার চিহ্নিত শাসকরা। এদেরও বিচার হওয়া প্রয়োজন।